মানুষের প্রতি অবিচল আস্থাই ছিল তাঁর শক্তির উৎস

সীতারাম ইয়েচুরি 

আগামী ৮ই জুলাই কমরেড জ্যোতি বসুর জন্মশতবর্ষের সূচনা হবে।

যদিও আমরা সবাই জানি প্রকৃতির নিয়মেই জন্ম হলে একদিন মৃত্যু আসবেই। কিন্তু এই অনিবার্য ঘটনাকে মেনে নেওয়াটা সবার পক্ষেই অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যখন বর্তমান পরিস্থিতির প্রতিটি বাঁক ও মোড়ে কমরেড জ্যোতি বসুর অনুপস্থিতি আমরা অনুভব করছি। সারাজীবন তিনি ভারতে এবং অবশ্যই সারা বিশ্বে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেছেন। তাঁর সেই অসমাপ্ত কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব তাঁর অনুপস্থিতিতে আমাদের ওপর বর্তেছে।

ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার 

জ্যোতি বসুর সাত দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং আধুনিক ভারতের বিবর্তন একই গতিতে চলেছে। এই বিশেষ কারণে, তিনি সবসময়ই অনুপ্রেরণার উৎস এবং নবীন প্রজন্মের কাছে আদর্শস্থানীয়। তাঁর উত্তরাধিকার একইভাবে এই প্রেরণার উৎস হয়েই থাকবে। প্রকৃতপক্ষে শুধুই কমিউনিস্ট আন্দোলনের নয়, তিনি আধুনিক ভারতের একজন অন্যতম প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব। ইংল্যান্ডে গিয়ে ব্যারিস্টার হওয়ার সময় তিনি কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকতাবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন ও এই মতাদর্শকে বরণ করেন। ১৯৪০ সালে ভারতে ফিরে আইনজীবীর কালো কোট না পরে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করে সরাসরি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কার্ল মার্কস একসময় বলেছিলেন যে যখন একটি ভাবনা জনগণের মনকে আলোড়িত করে, তখন তা এক বাস্তব শক্তি হয়ে ওঠে। ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতার ইচ্ছা যখন ভারতের মানুষকে আলোড়িত করছে, তখন জ্যোতি বসু কমিউনিস্ট আন্দোলনে যোগদান করেছিলেন। যদিও স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্র চরিত্র এবং তার উপাদান কী হবে তা নিয়ে তাঁর চিন্তা আরও অগ্রসর ছিল। তাঁরা মনে করতেন, যে রাজনৈতিক স্বাধীনতা আসবে তাকে প্রতিটি ভারতবাসীর সত্যিকারের অর্থনৈতিক স্বাধীনতাতে রূপান্তরিত করা প্রয়োজন। এর অর্থ হচ্ছে একটি সমাজতান্ত্রিক সমাজ তৈরি করা যেখানে মানুষের উপর মানুষের শোষণ বিলুপ্ত হবে। তাঁর এই ইচ্ছা-আবেগ কখনও লঘু হয়ে যায়নি। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি ভারতের জনগণের জন্য কাজ করে গেছেন। তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণময় জীবনে তিনি বহু ঝড়-ঝঞ্ঝার সম্মুখীন হয়েছেন, কিন্তু আদর্শের প্রতি তিনি ছিলেন অবিচল। মতাদর্শের সঙ্গে দায়বদ্ধতার মেলবন্ধনের কারণেই জ্যোতি বসু একজন ‘আদর্শ মানুষ’ হয়ে উঠেছেন।

স্বাধীনোত্তর ভারত বড় বড় সংগ্রামের মধ্যে আবর্তিত হচ্ছিল, যার ফলশ্রুতিতে সামন্তবাদী রাজশক্তি শাসিত রাজ্যগুলি ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়। কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে সংগ্রামগুলি ভূমি সংস্কারের দাবিতে এবং সামন্ততান্ত্রিক জমিদারব্যবস্থাগুলি বিলোপ করার বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসে। এই সময়েই ভারতের বিভিন্ন ভাষাভাষী জাতি, যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন, তারা নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় পেতে চাইছিলেন। এই প্রক্রিয়ায় শেষপর্যন্ত ১৯৫৬ সালে ভারতের রাজ্যগুলির ভাষাভিত্তিক পুনর্গঠন হয়।

আমাদের দেশের ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক চরিত্র এবং প্রশাসনিক কাঠামোর প্রতি জ্যোতি বসুর দৃঢ় প্রত্যয় তাঁর কর্মপদ্ধতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত থেকেছে। সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলি সর্বদাই আধুনিক ভারতের বিবর্তনের বিরোধী শক্তির প্রতিভূ হয়ে থেকেছে। জ্যোতি বসু এই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বিচ্ছিন্ন এবং পরাস্ত করা ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে গেছেন। পাশাপাশি, ভারতের রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে জনগণের অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় রূপান্তরিত করার জন্য, সমাজতন্ত্রের জন্য সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে তিনি সম্পূর্ণভাবে মনোনিবেশ করেছিলেন। কীভাবে তা অর্জিত হবে এই বিষয়ে ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের ভেতরে এক তীব্র মতাদর্শগত লড়াই শুরু হয়। বাম ও দক্ষিণপন্থী এই দুই বিচ্যুতির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করে অন্যান্য কমরেডদের সাথে জ্যোতি বসু সি পি আই (এম) গঠন করেছিলেন। যাঁরা লক্ষ্যপূরণে সংসদীয় এবং সংসদ- বহির্ভূত কার্যক্রমকে একত্রিত করে লড়াই করার সঠিক পথ গ্রহণ করেছিলেন। সংসদীয় গণতন্ত্র, তার প্রতিষ্ঠান এবং মঞ্চগুলিকে ব্যবহার করে আন্দোলন এবং একইসাথে জনগণের কাছে আরও বেশি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার সংগ্রামে জ্যোতি বসু ছিলেন অনবদ্য। আধুনিক ভারতের সংহতির লক্ষ্যে ভূমি সংস্কার রূপায়ণ, পঞ্চায়েতীরাজ প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নতিসাধন করে গণতন্ত্রকে শিকড়ের গভীরে পৌঁছে দেওয়া, ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি বিষয়গুলি জ্যোতি বসুর বিশেষ অবদান হিসাবে স্বীকৃত। এই সমস্ত বিষয়গুলি ছাড়া, জ্যোতি বসুর ব্যক্তিত্বের প্রধান দিক যা জনগণকে আকৃষ্ট করতো তা হলো মানুষের প্রতি তাঁর অবিচল আস্থা। তিনি সবসময় পার্টি ও কর্মীদের মানুষের কাছে যাওয়ার কথা বলতেন, আমরা কি করছি তা ব্যাখ্যা করতে বলতেন এবং মানুষের প্রতি বিশ্বাস রাখতে বলতেন। মানুষের প্রতি  এই বিশ্বাসই ছিল তাঁর শক্তি। মানুষ তাই তাঁর সততা নিয়ে কোনোদিন প্রশ্ন তোলেননি, এমনকি সন্দেহ প্রকাশও করেননি। 

মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু 

একটানা ২৩ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর ২০০০ সালে স্বেচ্ছায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরে আসেন জ্যোতি বসু, যা ভারতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নৈতিকতায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে। আগের মতো প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম হচ্ছিলেন না বলে তাঁর নিজের মধ্যেই অসন্তুষ্টি ছিল এবং তাই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছায় সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো সম্মতি দিয়েছিল।

১৯৭৭ সালে যখন জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন তখন পশ্চিমবঙ্গের দারিদ্র্যের অনুপাত ছিল প্রায় ৫২ শতাংশ। ১৯৯৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২৬ শতাংশ, প্রতি বছর ৪.২ শতাংশ হারে হ্রাস। এভাবে ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে দারিদ্র্য দূরীকরণে পশ্চিমবঙ্গ প্রথম স্থান লাভ করে। কেরালা ছিল দ্বিতীয় স্থানে প্রতি বছর ৩.৭ শতাংশ দারিদ্র্য হারে হ্রাস করে (সূত্র: ভারত-দারিদ্র্য হ্রাসের নীতিগুলি—বিশ্বব্যাঙ্ক, ২০০০)। তুলনামূলকভাবে, মহারাষ্ট্রে ১৯৯৪ সালে দারিদ্র্যের অনুপাত ছিল ৪৩.৫ শতাংশ। কৃষিক্ষেত্রে একইভাবে উন্নতি ঘটে। খাদ্যে ঘাটতি রাজ্য থেকে এই সময়েই পশ্চিমবঙ্গ উদ্বৃত্ত রাজ্যে পরিণত হয়। ধান উৎপাদনে শীর্ষস্থানে পৌঁছায় এই রাজ্য। অপারেশন বর্গার সাফল্যের ফলশ্রুতিতে রাজ্যের ৯০ শতাংশ কৃষিজমির মালিক হন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীরা। জ্যোতি বসুর মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময়ে ভূমিহীনদের মধ্যে ১৩ লক্ষ একর জমি বণ্টন করা হয়েছে। অতীতে কায়েমী স্বার্থ বেআইনীভাবে এই জমি দখলে রেখেছিল।

জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে বামফ্রন্ট সরকার অন্ধভাবে উদারনৈতিক অর্থনীতিকে আঁকড়ে ধরে থাকেনি। বরং উদারনীতির প্রবক্তা যারা অর্থনীতির পরিধি থেকে রাষ্ট্রকে সরিয়ে রাখার কথা বলেছিলেন এবং রাষ্ট্রের সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি বিসর্জন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন—তাদের বিরুদ্ধে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং ভূমিসংস্কারের ক্ষেত্রে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে।

অনবদ্য ব্যক্তিগত গুণাবলী 

২৫ বছরের বেশি সময় আমাদের পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে জ্যোতি বসুর সাথে কাজ করতে গিয়ে তাঁর অনেক প্রশংসনীয় গুণ দেখেছি যা অনুসরণযোগ্য। একটি হলো, মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে যুক্তির শক্তির উপর তাঁর অবিচল আস্থা। আবেগের আশ্রয় নিয়ে কোনোদিন কোনো তর্কেই তাঁকে হারানো যায়নি। বসুর ব্যক্তিত্বের একটি প্রধান দিক হলো তাঁর মানসিকতা। তাঁর মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন আমি কয়েকবার তাঁর সাথে বিদেশ ভ্রমণ করেছি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে স্বাভাবিকভাবেই তিনি কিছু বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী ছিলেন। কিন্তু ‍‌তিনি সবসময়ই অন্য কমরেডদের সাথে ভ্রমণ করতে পছন্দ করতেন এবং মুখ্যমন্ত্রী থাকার শেষদিন পর্যন্ত তিনি ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ‘ইকনমি ক্লাস’-এই ভ্রমণ করেছেন। এই সময়গুলিতে তিনি কিন্তু তাঁর সঙ্গী কমরেডদের বিষয়ে সজাগ থাকতেন, তাঁদের সুবিধা এবং প্রয়োজন সম্বন্ধে খবর রাখতেন। আমি একবারও তাঁকে ধৈর্য হারাতে দে‍খিনি।

জ্যোতি বসুর আর একটি গুণ হলো স্বেচ্ছাপ্রণোদিত শৃঙ্খলা, যা তাঁর ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনে তিনি সর্বদা মেনে চলেছেন। ১৯৯৬ সালে সংযুক্ত ফ্রন্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাবের সপক্ষে তিনি মত দেন কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়। সেই সময় তিনি শৃঙ্খলাবদ্ধ সৈনিকের মতো মনোভাব দেখিয়েছিলেন। ১৯৯৮ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত পার্টি কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠের মত গৃহীত হয়। তাঁর ব্যক্তিগত মতামত যাই থাকুক তিনি শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠের মতকেই তুলে ধরেছেন এবং তাঁর দায়িত্ব পালন করে গেছেন। কমিউনিস্ট পার্টির লৌহদৃঢ় শৃঙ্খলা এবং সাংগঠনিক নীতিগুলির প্রতি তাঁর আনুগত্য অনুসরণযোগ্য। তরুণ প্রজন্মের কাছে এগুলি শিক্ষণীয় গুণাবলী।

১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আমরা দুজনে কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে ফিদেল কাস্ত্রো এবং পার্টি নেতাদের সাথে আলোচনার জন্য কিউবা যাই। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ হয়ে ফেরার সময় আমাদের প্রায় একদিন মাদ্রিদে থাকতে হয় দেশে ফেরার বিমানের জন্য। স্পেনে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত কিউবা যাওয়ার পথে আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, আমরা কোনো বিশেষ দ্রষ্টব্য স্থানে যেতে চাই কি না। জ্যোতি বসু আমার দিকে তাকান। আমি বলি পিকাসোর ‘গুয়ের্নিকা’-র মূল ছবিটি যেহেতু মাদ্রিদের একটি মিউজিয়ামে আছে, তা দেখা যেতে পারে। কিন্তু কিউবা থেকে ফেরার সময় জ্যোতি বসু ঐ মিউজিয়ামে আর যেতে চাইলেন না শারীরিক কারণেই। তিনি আমাকে যেতে বললেন। এই কথায় ভারতের রাষ্ট্রদূত বললেন, মিউজিয়ামটি ঐদিন বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু জ্যোতি বসুর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করে তা খোলা রাখা হয়েছে। এই কথা শুনে জ্যোতি বসু বললেন, ‘ওরা জ্যোতি বসুকে কোনোদিন দেখেননি, তাই চিনবেন কি করে কে জ্যোতি বসু। সীতারাম যাক, ওরা বুঝবেন না কে গেছেন।’ শেষ পর্যন্ত আমি গেলাম, মিউজিয়াম খোলা ছিল এবং আমি ‘গুয়ের্নিকা’ দেখলাম।

সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে চলো 

আধুনিক ভারতের সংহতি, রাজনৈতিক নৈতিকতা জ্যোতি বসুর জীবন এবং কাজের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে এবং এই গুণাবলী অর্জিত হতে পারে তাঁর জীবনধারাকে অনুসরণ করার মধ্যে দিয়ে। ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে জনগণের প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নয়নে রূপান্তরিত করার অসমাপ্ত কাজ এই সংহতির রূপরেখাকে সূত্রায়িত করবে। দেশ এবং জনগণের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার মর্মবাণীকে আমাদের শক্তিশালী করতে হবে।

২০০৩ সালের ৪ঠা এপ্রিল চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য তাঁর মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকারপত্রে সই করতে গিয়ে জ্যোতি বসু লিখেছিলেন, ‘একজন কমিউনিস্ট হিসাবে, জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মানবজাতির সেবায় নিয়োজিত থাকার জন্য আমি অঙ্গীকারবদ্ধ। আমি খুশি যে এখন এমনকি মৃত্যুর পরেও আমি এই সেবা করতে পারবো।’

লড়াই করার অদম্য ক্ষমতা সারা জীবন ধরে দেখিয়েছেন জ্যোতি বসু। মৃত্যুর সময়ও তিনি লড়াই চালিয়ে গেছেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর সবাই যখন আশা ছেড়ে দিয়েছেন, তখনও সবাইকে অবাক করে তিনি ১৭ দিন লড়াই চালিয়ে গেছেন। ‘কখনও ছেড়ে দাও বলবে না’ এই ছিল তাঁর জীবনের ব্রত।

তিনি পলিট ব্যুরোর প্রথম ৯ জন সদস্যের অন্যতম এবং ঐ ঝোড়ো দিনগুলিতে সি পি আই (এম) প্রতিষ্ঠার সময় নবরত্নের শেষ ব্যক্তি হিসাবে তিনি বিদায় নিয়েছেন। মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে আমাদের সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে আমরা জ্যোতি বসুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারবো।

গণশক্তি, ৭ই জুলাই, ২০১৩

Advertisements
Published in: on জুলাই 10, 2013 at 7:48 অপরাহ্ন  মন্তব্য করুন  

The URI to TrackBack this entry is: https://jyotibasu.wordpress.com/2013/07/10/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%b2-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5/trackback/

RSS feed for comments on this post.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: