জ্যোতি বসুর জন্মশতবর্ষ

বিমান বসু 

কমরেড জ্যোতি বসুর আজ থেকে জন্ম শতবর্ষ শুরু হলো। তিনি ১৯১৪ সালের ৮ই জুলাই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আর আমা‍দের ছেড়ে চলে গেছেন ২০১০ সালের ১৭ই জানুয়ারি। জ্যোতি বসু দীর্ঘ সাত দশক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে তাঁর জীবদ্দশায় আমাদের দে‍‌শের কমিউনিস্ট ও বামপন্থী আন্দোলনের সব থেকে বেশি পরিচিত নেতা ছিলেন। এমনকি ভারতের কমিউনিস্ট ও বামপন্থী নেতা হিসেবে বিদেশেও তিনি পরিচিত ছিলেন। জ্যোতিবাবু দেশে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন একজন কমিউনিস্ট পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী হিসেবে। ১৯৪০ সালে বিলেত থেকে দেশে ফিরে কমরেড মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের সঙ্গে দেখা করে পার্টিতে সর্বক্ষণের কর্মী হিসেবে কাজ করার ইচ্ছে প্রকাশ করলে তা তখন পূরণ করা হয়েছিলো।

শ্রমিক সংগঠনের কাজের মধ্য দিয়েই জ্যোতিবাবুর রাজনৈতিক কার্যকলাপ শুরু হয়েছিলো। কমরেড মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের নির্দেশে তিনি বন্দর (পোর্ট) শ্রমিকদের মধ্যে এবং রেল শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে সংগঠন গড়ার কাজে যুক্ত হন। কিন্তু জ্যোতিবাবু রেল শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে কাজ করায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করতেন। তাই ধীরে ধীরে রেলওয়ে ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতা হয়ে উঠেছিলেন। উল্লেখ্য, ১৯৪৬ সালে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভায় রেল কেন্দ্র থেকে কমিউনিস্ট প্রার্থী হিসেবে জ্যোতিবাবু কংগ্রেসের ড. হুমায়ুন কবীরকে পরাস্ত করে জয়ী হয়ে‍‌ছিলেন।

শ্রমিক সংগঠনে কাজের সঙ্গে জ্যোতিবাবু ওতপ্রোতভাবে যুক্ত হয়ে গেলেও দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মানবতার শত্রু ফ্যাসিবাসী আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে অন্যান্যদের সঙ্গে সমানভাবে সোচ্চার হয়েছিলেন। তাই সবাই মিলে ১৯৪১ সালে ‘সো‍ভিয়েত সুহৃদ সমিতির’ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন কমরেড জ্যোতি বসুকে। ধীরে ধীরে জ্যোতিবাবু সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের জীবন-যন্ত্রণা লাঘব করার আন্দোলন সংগ্রামে একজন বিশিষ্ট প্রচারক ও সংগঠক হিসেবে গড়ে ওঠেন। জ্যোতিবাবু বিধায়ক হিসেবে প্রাদেশিক আইনসভার ভিতরে শ্রমিক-কৃষক আন্দোলন, খাদ্য সমস্যা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, বন্দীমুক্তি, ব্রিটিশ পুলিসের নির্যাতন প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে আইনসভার বাইরে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন। এইভা‍‌বে নানা কাজে যুক্ত থাকার ফলে ’৪৬ সালের ১৬ই আগস্ট কলকাতায় ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গা শুরু হলে তা বন্ধ করতে রাস্তায় নেমে ইতিবাচক ভূমিকা পালন ক‍‌রেছিলেন।আবার বাংলার কৃষকসমাজ ‘তেভাগা আন্দোলন’ শুরু করলে তাঁদের ন্যায্য দাবি আদায়ের কথা বারবার আইনসভার অভ্যন্তরে জোরালো ভাষায় পেশ করেছেন। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৬ মাসের মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয়। যেদিন নিষিদ্ধ করা হলো অর্থাৎ ২৬শে মার্চ, সেইদিনই জ্যোতিবাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো। এটাই তাঁর প্রথম কারাজীবন। এরপর অনেকবারই তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন, মুক্ত হয়েছেন। আবার একবার গ্রেপ্তার থাকাকালীন সময়ে ‘হেবিয়াস কর্পাস’-এ আবেদন করে হাইকোর্টের আদেশে তিনি ১৯৫১ সালে মুক্তি পান। এরপর পার্টি আবার বৈধ হয়।

১৯৫২ সালে প্রথম সাধারণ নির্বাচনে জ্যোতিবাবু পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কমিউনিস্ট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত টানা তিনি বিধানসভার সদস্য ছিলেন। ব্যতিক্রম ছিলো ১৯৭২ সালে জাল-জোচ্চুরি করে সাজানো বিধানসভা তৈরি করার সময়। কমিউনিস্ট পার্টির কাজে দক্ষতা অর্জন করার ফলশ্রুতিতে ১৯৫৩-৫৪ সালে জ্যোতিবাবু পার্টির পশ্চিমবঙ্গ প্রাদেশিক কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত হন। এই পদে তিনি ছিলেন ১৯৬০-৬১ সাল পর্যন্ত। তখনকার দিনে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে জ্যোতিবাবু বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। যেমন ১৯৫৩ সালে ট্রামভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৫৪ সালে দুর্ভিক্ষ-বিরোধী আন্দোলন, ১৯৫৬ সালে বঙ্গ-বিহার সংযুক্তি বিরোধী আন্দোলন, ১৯৫৯ সালে ঐতিহাসিক খাদ্য আন্দোলন, ১৯৬৫-৬৬ সালের আন্দোলন সহ সমস্ত আন্দোলনে জ্যোতিবাবু সামনের সারিতে থেকে লড়াই সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৬৫ সালে জ্যোতিবাবু গ্রেপ্তার হয়ে পরে ১৯৬৬ সালে মুক্ত হন, কিন্তু জ্যোতিবাবু কোনো কো‍নো সময়ে গ্রেপ্তারী এড়ানোর জন্য আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

জ্যোতিবাবু আন্দোলন সংগ্রামে যেমন যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন, ঠিক তেমন প্রশাসনের যখন যেখানে যে পদে আসীন ছিলেন, সেখানেও তিনি তাঁর দক্ষতার ছাপ ফেলেছিলেন। যেমন ১৯৬৭-৬৯-এর স্বল্পস্থায়ী যুক্তফ্রন্ট সরকারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করলেও রাজ্যের জনগণের কাছে মুখ্য আকর্ষণ ছিলেন আবার জ্যোতিবাবু। এ-রাজ্যে জ্যোতিবাবুই প্রথম ঘোষণা করেছিলেন যে ন্যায়সঙ্গত শ্রমিক-কৃষক আন্দোলন দমন করতে পুলিসকে ব্যবহার করা হবে না। যদিও সেই সময়ে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বাংলা কংগ্রেসের অজয় মুখোপাধ্যায়। এরপর কংগ্রেস রাজত্বে নৈরাজ্য, সন্ত্রাস, আধা-ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসের রাজত্বের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন বিকাশের ক্ষেত্রে ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার লড়াইতে জ্যোতিবাবু মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। দেশব্যাপী জরুরী অবস্থার বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করার কাজেও জ্যোতিবাবু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আর জরুরী অবস্থা অবসানের পর লোকসভা নির্বাচন ঘোষিত হলে রাজ্যে সমস্ত বামপন্থী দলসমূহকে নিয়ে বামফ্রন্ট গড়ে তোলার কাজে কমরেড প্রমোদ দাশগুপ্তর সহযোগী হিসেবে কমরেড জ্যোতি বসু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

১৯৭৭ সালে প্রথমে সারা ‍‌দেশে লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং কেন্দ্রে কংগ্রেসের পরাজয়ে প্রথম অকংগ্রেসী সরকার গড়ে ওঠে। পরে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বামফ্রন্ট জয়ী হয় এবং কমরেড জ্যোতি বসু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি রাজ্যে নৈরাজ্যের অবসান ঘটিয়ে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত করেন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সর্বত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং সমস্ত রাজবন্দীদের মুক্তি দিতে হবে। তাই অল্প কয়েকমাসের মধ্যে ১৭০০ রাজবন্দী মুক্তি পান। এবং ১০,০০০ মিথ্যা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহৃত হয়। এই রাজবন্দী ও মিথ্যা মামলার আসামীদের মধ্যে প্রায় সব রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা যুক্ত ছিলেন।

নির্বাচনী ইশ্‌তেহারে ৩৬ দফা কর্মসূচীর প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপায়িত করার লক্ষ্যে জ্যোতি বসু ঐকান্তিক ছিলেন। তাই সম্ভব হয়েছিলো এক বছরের কম সময়তে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতী নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে এই নতুন পঞ্চায়েতী ব্যবস্থা নির্বাচনের মাধ্যমে সারা ভারতে প্রথম পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়িত করা। ধীরে ধীরে নির্বাচনের মাধ্যমে পৌরসভা ও সমবায় সমিতি গড়ে ওঠার কাজ শুরু হলো। আসলে জ্যোতিবাবু বামফ্রন্টের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের নীতিকে সরকারী ব্যবস্থাপনায় কার্যকরীভাবে রূপায়ণ করার কাজে একশ’ ভাগ আন্তরিক ছিলেন। গণতন্ত্রকে গ্রাসরুট লেভেলে পৌঁছে দিয়ে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেছেন।

শপথ গ্রহণ করেই জ্যোতিবাবু ঘোষণা করেছিলেন ন্যায়সঙ্গত গণ-আন্দোলন দমন করতে পুলিস ব্যবহার করা হবে না। ঘোষণা করেছিলেন সমাজের সব অংশের মানুষ, যাঁরা বিভিন্ন পেশায় যুক্ত রয়েছেন তাঁদের সকলেরই নিজের নিজের ক্ষেত্রে সংগঠিত হওয়া ও ইউনিয়ন করার অধিকার থাকবে। ফলে, রাজ্য সরকারী কর্মচারী যাঁদের কংগ্রেস আমলে চাকরি থেকে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিলো বা সাসপেন্ড করা হয়েছিলো তাঁদের সবাইকে নিজের নিজের কর্মক্ষেত্রে পুনর্বহাল করা হয়। কলে-কারখানায় শ্রমিকদের ইউনিয়ন করার অধিকারের ওপর যে বিধিনিষেধ ছিলো তা প্রত্যাহার করা হয়। ছাত্রসংসদ নির্বাচন যা আগে বন্ধ করা হয়েছিলো, তা পুনরায় চালু করা হয়। একইসঙ্গে ভূমিসংস্কারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। ফলে ভূমিহীন চাষীদের মধ্যে সরকার অধিকৃত জমি বিলিবণ্টন করা শুরু হয়ে যায়। পরবর্তীতে পুরোনো জমিদার-জোতদারদের সিলিং বহির্ভূত জমি অধিগ্রহণ করে গরিব কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। এমনকি বর্গাচাষীর স্বার্থরক্ষা করতে ‘অপারেশন বর্গা’ চালু করা হয়।

শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে একবছরের মধ্যে এক হাজার নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয় এবং শিক্ষাকে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত অবৈতনিক ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীসময়ে সমগ্র স্কুলশিক্ষা অবৈতনিক হয়েছে। পরিকল্পনা করে প্রাথমিক, জুনিয়র, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে ব্যাপক ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষার অঙ্গনে এসে শিক্ষালাভের সুযোগ পেয়েছে। জ্যোতিবাবু সবসময়ে শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে উৎসাহ দিতেন। নিচের ক্লাসগুলোতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই সরবরাহ করার নিয়মও চালু করা হয়। ফলশ্রুতিতে প্রথম প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে শিক্ষালাভের সুযোগ বৃদ্ধি পেল। স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রসারিত করে প্রতিষেধকমূলক থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা শ্রেয় তা প্রচারে গুরুত্ব পেয়েছিলো। এইসব কাজে জ্যোতিবাবুর তদারকি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং জ্যোতিবাবুকে একজন দক্ষ প্রশাসকের আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করেছে। আবার সব দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রিসভার সদস্যদের জ্যোতিবাবু স্বাধীনভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করতেন।

আমি লক্ষ্য করেছি, জ্যোতিবাবু রাজনৈতিক দিক থেকে প্রতিকূল পরিস্থিতি গড়ে উঠলেও আন্দোলন-সংগ্রাম ও সংগঠনের কাজ করতে কখনো দিশেহারা হতেন না। আবার প্রশাসন পরিচালনা করার সময়ও দৃঢ় মনোভাব নিয়ে তা মোকাবিলা করতেন। ১৯৬৯ সালে দ্বিতীয় যুক্তফ্রন্ট সরকারের সময়ে পুলিসে অসন্তোষ দেখা দিলে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে তাঁর কাছে পুলিসী পোশাকে বিক্ষোভ দেখাতে গেলে ধীরস্থিরভাবে বলেছিলেন — আপনারা বাইরে যান, পরে কথা বলবো। তিনি বিশ্বাস করতেন রাজনৈতিক কাজ করলে সমস্যা দেখা দিতে পারে কিন্তু তা ধীরস্থিরভাবে সমাধা করতে হবে। আবার তিনি মানুষের উপর আস্থা রাখতেন এবং বলতেন ‘মানুষ, একমাত্র মানুষই ইতিহাস রচনা করে। এটা ঠিকই যে মানুষ কখনো কখনো ভুলও করে। কিন্তু নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে শেষপর্যন্ত মানুষের জয়ই অবশ্যম্ভাবী।’

রাজ্যে নৈরাজ্যের অবসান ঘটিয়ে শান্তি—শৃঙ্খলার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার কাজসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেই জ্যোতিবাবু সন্তুষ্ট হয়ে বসে থাকতেন না। তাই ভারতের মতো যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্র কাঠামোতে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক যুক্তিসঙ্গত পুনর্বিন্যাসের দাবিতে আন্দোলন পরিচালনা করার ক্ষেত্রে জ্যোতিবাবু ভারতের যে কোন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর থেকে একটু অগ্রণী অবস্থানে ছিলেন। কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক নিয়ে নানা জায়গায় অসংখ্য আলোচনাসভা হয়েছে। শ্রীনগর কনক্লেভ, কলকাতা কনক্লেভ, দিল্লি কনক্লেভ প্রভৃতি সফলভাবে আয়োজিত হয়েছে। জাতীয় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর জ্যোতিবাবুর যুক্তিশীল বক্তব্য তাঁকে সর্বভারতীয় নেতার আসনে বসিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে, প্রবাদপ্রতিম এই কমিউনিস্ট নেতার শতবর্ষে তাঁর কর্ম ও জীবনের নানা শিক্ষণীয় দিক বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে আমাদের পার্টির পক্ষ থেকে একবছর ধরে নানা কর্মসূচীর রূপায়ণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কমরেড জ্যোতি বসু কমিউনিস্ট আন্দোলন ও বামপন্থী আন্দোলনের নেতা ও কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে বিকল্পের সন্ধানে অনেক পথ হেঁটেছেন। রাজ্যে বহুবছর ধরে কোয়ালিশন সরকার চালিয়ে বর্তমান সময় যে কোয়ালিশনের সময় তা নিজের কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে জ্যোতিবাবু মূর্ত করে তুলেছেন। স্বাভাবিকভাবে ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জ্যোতিবাবুর কমিউনিস্ট ও বাম আন্দোলন সংগ্রাম ‍‌থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে তাকে বাস্তবে রূপায়িত করার অঙ্গীকার আমাদের নিতে হবে। 

গণশক্তি, ৮ই জুলাই, ২০১৩

Advertisements

The URI to TrackBack this entry is: https://jyotibasu.wordpress.com/2013/07/10/%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%8b%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7/trackback/

RSS feed for comments on this post.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: